আজ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তাড়াশে ঝুকি নিয়ে সেবা দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা

সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও চলতি বছরের মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিস্তার লাভ করার পর থেকেই ক্রমশঃ এর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগন দিশেহারা হয়ে পরেছে। তার পরেও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসের এই মহামারির মধ্যেই প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে ঝুকি নিয়েই রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী সিএইচসিপিরা। এমন কি কেউ কেউ চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজেও আক্রান্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসে। করোনার এই মহামারীতে সরকারী বেসরকারী হাসপাতালে গিয়ে রোগীরা ঠিক ঠাক চিকিৎসা সেবা না পেলেও তাদের সেবা দিতে সদা প্রস্তুত রয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী সিএইচসিপিরা।

মহামারীর ঝুকির মধ্যে সিএইচসিপিদের এমন সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট গ্রামের মানুষ। প্রসংশা করেছেন সুধিসামাজ ও গুনিজনরা । কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে অনেকে। এই উপজেলায় সর্বমোট ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কেন্দ্র রয়েছে। ক্লিনিকগুলো বেশিরভাগই প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলে হওয়ায় এখানে সেবা নেওয়ার বেশির ভাগ রোগী হয় নি¤œ আয়ের গ্রামের সাধারন মানুষ। বঙ্গবুন্ধর সপ্নের এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিনা মুল্য সপ্তাহে ৬ দিন সেবা ও ঔষধ পেয়ে অনেক টা উপকৃত গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ।

মঙ্গলবার তাড়াশের বেশ কয়টি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায় সামাজিক দুরত্ব রেখে রোগীরা ঔষধ ও চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। অন্যান্য সময়ের চেয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে সেবা নিতে আসা রোগী বেড়েছে দ্বিগুন হারে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ায় খুশি স্থানীয়রা।

উপজেলার কুসুম্বী কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিত্তন কুমার সাহা বলেন, আমাদের ক্লিনিক গুলোতে বেশির ভাগই সাধারণ মৌসুমি জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা, পেট ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, বমি ও পাতলা পায়খানা এ ধরণের সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন আমাদের কাছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাদের সেবা দেওয়ার এবং সরকারের দেওয়া বিনা মুল্যে ঔষধ প্রদান করে থাকি। উপজেলার কাঞ্চেনেশ্বর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার আয়শা সিদ্দিকা বিউটি সহ আর বেশ কয়জন সিএইচসিপিরা আক্ষেপ করে বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা শিশু ও গর্ভবতীসহ নানা ধরনের রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু চাকরি শুরু থেকেই আমরা একই বেতনে প্রায় ৯ বছর করে আসছি। যে বেতনে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন পরিচালনা করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পরেছে। আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত কাউরাইল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোঃ শাহীনুর আলম মোবাইল ফোনে জানান দেশের এই দুর্যোগময় মুর্হুতে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছি সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন সুস্থ্য হয়ে আবার রোগীদের সেবা করতে পারি।

অপর দিকে শোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোঃ ফিরোজ্জামান মোবাইলে জানান যে , আমার মাঝে করোনা উপর্সগ দেখা দেওয়ায় পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে বর্তমান হোম কোরেন্টেইনে আছি, সুস্থ্য হয়ে আবারও রোগীদের সেবা দিতে সর্বদা প্রসÍুত।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জামাল মিয়া, সিএইচসিপিদের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ঝুকি নিয়ে সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইতি মধ্যে সিএইচসিপিদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সেই সাথে আরও কয়জনের করোনার সন্দেহ করে নুমনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তাদের কে হোম কোরেন্টেইনে থাকতে বলা হয়েছে।সিএইচসিপিদের চিকিৎসা সেবাদানের প্রসংশা করে তিনি আরও বলেন, নিরবিচ্ছিন্নভাবে তৃনমূল মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে সিএইচসিপিদের অগ্রানীয় সাহসী ভূমিকার পালন করছেন।

সোহেল রানা সোহাগ, তাড়াশ।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!