আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তাড়াশে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে দাফন-কাফন ও মসজিদে নামাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রামের লোকজনদের কবরস্থানে দাফন-কাফনে, মসজিদে নামাজ আদায় ও খেলার মাঠে খেলতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শতাধিক গ্রামবাসী স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে নামাজ, পশ্চিমপাড়া পাঞ্জেগানা মসজিদে খুতবা প্রদান, কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনে ও খেলার মাঠে খেলতে বাধা দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জাল হোসেন সরকার ও তার ভাই হেলাল উদ্দিন। অভিযোগে মোতাহার হোসেন, লোকমান হোসেন, তাজ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর প্রাং, আবুল কালাম, মোশারফ হোসেনসহ শতাধিক ব্যাক্তি বলেন, মালিপাড়া গ্রামটি পূর্ব-পশ্চিম লম্বা। গ্রামে একটি মসজিদ পূর্বপাড়ায় হওয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে মুসুল্লিদের নামাজ পড়তে যেতে হয়। তাই গত ১০ বছর পূর্বে মাটিয়া গ্রামের লোকজন একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

পরে সেখানে শুক্রবারের নামাজের খুতবা আদায়ের জন্য গ্রামপ্রধানের অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে খুতবা আদায় করা হলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জাল হোসেন, তার ভাই হেলাল উদ্দিন ও এমদাদুল হক আঙ্গুর মসজিদের তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে অনেক অনুরোধ করে গত কোরবানীর ঈদে তাদেরকে মসজিদের তালা খুলে দেয়ার জন্য বলা হয়। এ সময় মালিপাড়া গ্রামের এমদাদুল হক আঙ্গুর মাস্টার আমাদের অনুরোধ নাকচ করে দেন। একপর্যায়ে গ্রামের ২শতাধিক লোক নিয়ে আলাদা সমাজ করি। এরপর থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জাল হোসেন, তার ভাই হেলাল উদ্দিন, নজের প্রাং ও আঙ্গুর মাস্টার গ্রামের ঈদগাহ মাঠে নামাজ, পশ্চিমপাড়া পাঞ্জেগানা মসজিদে খুতবা প্রদান, কবর¯’ানে মৃত ব্যক্তিদের দাফনে ও খেলার মাঠে ছেলেদের খেলতে দিচ্ছেন না। এছাড়া, তারা আমাদের লোকজনদের মারধরের জন্য বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিচ্ছেন। অভিযুক্ত নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জাল হোসেন সরকার বলেন, গ্রামের প্রধানরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি সঠিক। তারা যদি গ্রামের কথা না শুনে আলাদা সমাজ করে তাহলে তো বাঁধা দেয়া হবেই। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাড়াশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন- মসজিদে নামাজে, কবর¯’ানে দাফনে ও খেলার মাঠে খেলতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। পরে অভিযুক্তদের বলা হয়েছে বাঁধা না দিতে। কারণ মুসলমান হিসেবে ধর্মীয় কাজে বাঁধা দেওয়া একদম অন্যায়। এরপরেও যদি তারা বাঁধা দেয়া হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!