আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গো-খাদ্যের সংকটে শাহজাদপুরের খামারিরা

শাহজাদপুর প্রতিনিধি :
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষনে মধ্য আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বন্যায় জনভোগান্তির সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার সহস্রাধিক গো-খামার। গবাদি পশুর খাবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শাহজাদপুরের বন্যাকবলিত খামারিরা। বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলায় বন্যা দেখা দেওয়ায় এসব গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

বন্যায় উপজেলার অর্ধলক্ষ পরিবার ও ৭০০শ খামারের প্রায় তিন লাখ গবাদি পশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বানভাসীরা বিভিন্ন রাস্তা, উঁচু স্থান ও বাঁধে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে কৃষকের গচ্ছিত রাখা খড়ও। বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খামারিরা। গো-খাদ্যের সংকটে ক্রমেই গবাদিপশু দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে দুশ্চিন্তায় কৃষক ও খামারিরা। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যায় গো-খাদ্যের সংকট মোকাবিলায় খড় প্রক্রিয়াজাত করে গবাদি পশুকে খাওয়ানোর জন্য তাদের ভ্যাটেনারি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে।

প্রতি মণ খড় (বিচালী) বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকায়। কাঁচা ঘাস না পাওয়ায় অনেক খামারি খাল বিল ডোবা নালা থেকে কচুরী পানা সংগ্রহ করে গবাদি পশুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার শতাধিক গরুর বাথান ও ৩ হাজার গোচারণ ভূমি বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাব ও এলাকার প্রায় ৩ লাখ গবাদি পশুর খাদ্যাভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যার সময় বেশির ভাগ এলাকা দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফসলসহ তৃণজাতীয় খাদ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদি পশুর চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। স্বল্প আয়ের খামারিরা সারাদিন মাঠে মাঠে ঘুরেও গো-খাদ্যের কাঁচা ঘাসের যোগান দিতে পারছে না। চরাঞ্চলের অনেক খামারি গরু, মহিষ ও ছাগল-ভেড়াকে অর্ধাহারে অনাহারে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ কারণে অনেক খামারি তাদের গৃহপালিত পশু বাধ্য হয়েই বিক্রি করে দিচ্ছেন।
সরেজমিন উপজেলার তালগাছি, গাড়াদহ, চরনবিপুর, টেপড়ি, নরিনা, বাতিয়া, যুগ্নীদহ, টেটিয়ারকান্দা, কায়েমপুর ব্রজবালা, পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, চৌচির, বাড়াবিল, দাবাড়িয়া, দাড়িয়াপুর, পোরজনা, কৈজুরি, পাতালিয়াপাড়া, উল্টাডাব, জামিরতা, সোনাতনী, বানতিয়ার, বাঘাবাড়ী, চরাচিথুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে মাঝারি খামারিদের সাথে কথা হলে তারা প্রতিবেদকে জানায়, যদি তাদের ১৫দিনের গো-খাদ্য সরকারি অথবা বেসরকারি ভাবে সহযোগীতা পাই তাহলে এই আকস্মিক বন্যায় যে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে তা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে।

পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ী গ্রামের বড় খামারি মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী জানান, তার গ্রামে সব মিলে প্রায় ২শ খামারি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গরু লালন পালন করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি জানান, তার নিজেরও পাঁচ শতাধিক গরুর একটি খামার রয়েছে। খৈল-ভূষি ও খড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দুধের দাম কম থাকায় খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে চারণ ভূমির ঘাস সম্পুর্ণ ভাবে বিনষ্ট হওয়ায় চরাঞ্চলে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

বন্যা কবলিত স্বল্প আয়ের লোকজন যেকোন ভাবে তাদের নিজেদের খাদ্যাভাব মেটাতে পারলেও গবাদি পশুর খাদ্যের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি মণ খড় ৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তারা গবাদি পশুর খাবারের ব্যবস্থা করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সকল সংস্থার সহায়তা কামনা করেন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মীর কাওছার হোসেন জানান, বন্যা আসার আগে আমি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা টিম নিয়ে কিভাবে ঢোলের মত গর্ত করে তিন মাস যাবৎ খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় তা প্রতিটা ইউনিয়নে খামারিদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হয়েছে। আমি এবং আমার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কর্মী টিম সব সময় খামারিদের পশু তদারকি করছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোন সহযোগীতা পাইনি। গতবার উপজেলা প্রশাসন থেকেও পেয়েছিলাম এবার এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহযোগীতা পাইনি। তবে সহযোগীতার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

ত্রাণ সহযোগীতা পেলে ছোট ও মাঝারী খামারিদের মাঝে বিতারণ করা হবে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এবার গো-খামারিদের জন্য কোন ত্রাণ সহযোগীতা আসেনি। তবে আবেদন করা হয়েছে সহযোগীতা এলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে বিতারণ করা হবে। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মো.শামসুজ্জোহা জানান, শাহজাদপুর একটি গবাদিপশু সমৃদ্ধ এলাকা। এই গবাদি পশুর খামারের উপর প্রায় ৭০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!