আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সলঙ্গায় হত্যা মামলার আসামিরা জেলহাজতে থাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
হত্যা মামলার আসামীরা জেলহাজতে থাকায় আসমিদের জনশুন্য বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের কেসিফরিদপুর গ্রামে। এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন আসামীদের স্বজনসহ এলাকার সচেতন মহল। অভিযোগে জানাগেছে, সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের কেসিফরিদপুর গ্রামে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১৭ আগস্ট ২০২১ তারিখ সকাল ৭টার দিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ওই গ্রামের মেজবাহার শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়। পরবর্তীতে তাকে ওই দিনই সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেখানে ওই দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টায় তার মৃত্যু ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মাসুদুর রহমান বাদী গত ১৮ আগস্ট প্রতিবন্ধীসহ ৭জন নারী-পুরুষকে আসামি করে সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এদিকে মামলা দায়েরের আগের দিন ঘটনাস্থল থেকে সলঙ্গা থানা পুলিশ ৩ জন নারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় এবং মামলার পর আরও ৪জন পুরুষ আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এঘটনায় ৭জন আসামিই জেলহাজতে রয়েছে। এতে ওই বাড়িটি জনশুন্য হয়ে পড়ার সুযোগে বাদী পক্ষের লোকজন ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আসামিদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটপাটের ঘটনা ঘটায়।

সোমবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মামলার আসামিদের বাড়িঘর ভাংচুর করে বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র, ধান-চাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, হাড়ি-পাতিল ও গবাদি পশুসহ সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে মামলার বাদীর লোকজন। ওই বাড়িতে একটি সুতা পর্যন্ত রাখা হয়নি। বাড়ির সমস্ত কিছুই লুট হয়েছে। এমনকি বসতবাড়ির গাছপালা কেটে উজাড় করার পর পাকা বসত ঘরের দরজা-জানালা এবং দেয়ালের ইট খুলে খুলে নেওয়া হচ্ছে। আবার আসামিদের বসতবাড়ির মাটি কেটে গর্ত করে পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। এতে সবমিলে আসামিদের প্রায় দেড়-দুই কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় এক নারী বলেন, দিনে দুপুরে আসামিদের বাড়িভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এদিকে আসামিরা জেলহাজত থেকে বের হয়ে যেন বসত ভিটায় ফিরতে না পারে সে বিষয়টি মাথায় রেখে মামলার বাদীসহ তাদের লোকজন সুপরিকল্পিতভাবে আসামিদের বাড়ি শ্মশ্বানে পরিণত করছে। এতে গ্রামের শান্তিপ্রিয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এদিকে ভাংচুর ও লুটপাটের সংবাদ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থে গেলে বাদীর লোকজন তাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করেছে। বাড়ি ঘরে লুটপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে, আসামিদের আত্মীয়স্বজনরা বলেন, দীর্ঘ দিন যাবৎ মেজবাহারের সাথে লুৎফর রহমান মাস্টার এর জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংঘর্ষের ঘটনায় মেজবাহার মারা যায়। এদিকে মামলার পর বাদীর লোকজন আসামিদের বাড়ি ঘরে হামলা করে সমস্ত কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

তাদের দাবী উভয় পক্ষের মধ্যে যখন সংঘর্ষ বাঁধে তখন মামলার বাদী পক্ষের লোকজনের দেশিয় অস্ত্রের আঘাতেই মেজবাহার আহত হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই দায়ভারটি আসামিদের উপর চাপাতে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আসামিরা বর্তমানে হাজতে থাকায় বাদীর লোকজন লুটপাটসহ তাদের বাড়িঘর নিচিহৃ করে ফেলছে। আসামিরা জামিনে বের হয়ে আসলে ধ্বংসাবশেষ বাড়িতে তাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই মিলবেনা।

সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, মামলার সকল আসামি জেলহাজতে রয়েছে। তবে আসামিদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাগুলো দুঃখজনক। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যারা লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে সে দায়ভার তাদেরই বহন করতে হবে। তবে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এতে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!