আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনেই বিধি নিষেধ অমান্য করেছে একাধিক প্রতিষ্ঠান

চরাঞ্চল প্রতিনিধি :

বিশ্বব্যাপী বিস্তার করা অদৃশ্য এক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ২বছর যাবত বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুবাধে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনাতেও সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতার, সে বিবেচনা থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করণের মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা অনুসরন করে প্রতিষ্ঠান চালানোর শর্তে সকল স্কুল, কলেজ খুলে দিয়েছে সরকার। দীর্ঘ সময়ের বন্ধ শেষে স্কুল কলেজ খোলার সুবাধে অনেক প্রতিষ্ঠান গুলোকে দেখা গেছে নানা আয়োজনে বরন করে নিয়েছে শিক্ষার্থীদের।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য কথা বিবেচনা করে নিয়েছে নানা প্রস্তুতি। সাবান, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, মাস্ক, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের ব্যবস্থাসহ নানান সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা রয়েছে অধিকাংশ স্কুল গুলোতে, এসবের মাঝেও ব্যতিক্রম দেখা গেছে কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে।

উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ২৯নং পূর্ব রেহাইশুড়িবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর পানাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের ৩ নং রঘুপুর বারমাইশ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০৬ নং ডিগ্রীদোরতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিগ্রীদোরতা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিগ্রীদোরতা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও নেই কোন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা নেই, বিদ্যালয় আঙিনা জুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে আমরা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছি, বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনের সুবাধে আগেই ছুটি দেয়া হয়েছে।

পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিলো, কিন্তু কেরানি আমাকে না জিঙ্গেস করেই তা নামিয়ে ফেলেছে। উত্তর পানাগাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র আরও ভয়াবহ, শ্রেণী কক্ষে ঢুকতেই দেখা যায় এক বেঞ্চে চাপাচাপি করে একাধিক শিক্ষার্থীকে বসানো হয়েছে, কারো মুখে মাস্ক নেই, বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকই মাস্ক ছাড়া পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দীন বলেন, মাস্ক সকালে পড়া ছিলো, আপনাদের আসার একটু আগেই খুলে ফেলেছে। ২৯ নং পূর্ব রেহাইশুড়িবেড় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দিয়েই পরিষ্কার করানো হয়েছে শ্রেনীকক্ষ, সেখানে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদকেও পাওয়া যায়নি।

একই অবস্থা রঘুপুর বারমাইশ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সেখানে গিয়ে শ্রেনীকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল ব্যাগ, বই-খাতা পেলেও পাওয়া যায়নি শিক্ষার্থী-শিক্ষককে।
ডিগ্রীদোরতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কেরানি বাদে কাউকে পাওয়া যায়নি, যথাসময়ের আগেই বন্ধ করেছে সকল কার্যক্রম।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্লাস চালানো সম্পর্কে জানতে চাইলে একাধিক অভিভাবক জানান, ২বছর পর স্কুল খুলছে, মাস্টাররা নিয়মকানুন না মেনে ক্লাস নিলে সরকার আবার স্কুল বন্ধ দিবে, এতে বাচ্চাদের ক্ষতি হবে, তাছাড়া বাচ্চারা অসুস্থ হলে মাস্টাররা কি দায়িত্ব নিবে?

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!