আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

উল্লাপাড়ায় চরাঞ্চলের কাঁশফুল মেলে ধরেছে আপন রূপ

সাহারুল হক সাচ্চু :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চরাঞ্চলে কাঁশ বনে ফুটেছে ফুল। মেলে ধরেছে আপন রূপ। প্রকৃতি প্রেমীদেরকে ডাকছে কাছে। শরৎ শুভ্রতা আর প্রকৃতির রূপের বন্দনায় মন চাইতে দলবেধে অনেকেই সেখানে যাচ্ছেন। একটু বেড়াতে কেউ একাকীও যাচ্ছেন। বছর ঘুরতেই জমি মালিকেরা এখান থেকে টাকা আয় করছেন। উল্লাপাড়া পৌর এলাকার এনায়েতপুরে ফুলঝোড় নদী পাড়ে হেলিপ্যাড। নদীটির ওপারে পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বিশাল এলাকা নিয়ে চর সাতবারিয়া আবাদি মাঠ। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে টানা ক’মাস চরের বেশি অংশ জমি পানিতে তলিয়ে থাকে। এবারেও তলিয়ে আছে।

এরই মাঝে ফুলঝোড় নদী পাড় ঘেষে প্রায় বিঘা দশেক জমি নিয়ে কাঁশবন বাগান। স্থানীয়দের কাছে কাইশা বাগান নামে পরিচিত বলে জানা যায়। এখন পুরো কাঁশ বাগান জুড়ে এক থেকে দেড় ফুট পানি। এরই মাঝে পুরো বাগান বলতে গেলে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। ফুটেছে কাঁশ ফুল। একটু বাতাসেই দুলছে। সরেজমিনে গিয়ে এসব দেখা ও আরো জানা গেছে, ফুল ফোটার পর থেকেই সকাল ও বিকেলে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবেধে বহুজন এখানে বেড়াতে আসছেন। বিকেলবেলায় বেশি মানুষ আসেন। এপারের হেলিপ্যাড ঘাট থেকে ওপারের কাঁশ বাগানে যেতে ডিঙি নৌকায় জন প্রতি দশ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়। পাচ থেকে সাতটি ডিঙি নৌকা সেখানে ভাড়া খাটে। এনায়েতপুরের খোরশেদ আলম নিজের একটি ডিঙি নৌকায় মাঝি।

তিনি বলেন, এমনিতেই একবার পার হতে ভাড়া দশ টাকা নেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবেধে আসা ব্যক্তিগণ পারাপারসহ আধা ঘণ্টা থেকে ঘণ্টাখানেক সময় কাঁশ বাগানের চারপাশ ঘুরে বেড়াতে ভাড়া বাবদ টাকা চুক্তি করে নেন। তিনি ছাড়াও এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন বিকেলবেলা বেশিজন আসেন। আগে জমির পরিমাণ বেশি ছিলো। এখানে দলবেধে বেড়াতে আসা ঝিকিড়া ও ঘোষগাতীর একাধিক জন বলেন শহরের কোলাহল থেকে নিরিবিলি বিকেলের কিছুটা সময় কাটাতে সপ্তাহের এক দু’দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে আসেন।

বর্ষাকাল পেরিয়ে গেলেও পানিতে ভরপুর নদী আর কাঁশ বন দেখা সাথে নৌকায় বেড়ানো হয়।
সাতবারিয়া গ্রামের আব্দুল হাকিম মিয়া জানান তার আরেক ভাই মহরম মিয়ার মিলে চরে প্রায় পয়তাল্লিশ শতক জমি জুড়ে কাঁশ বাগান রয়েছে। আরো বেশ ক’জনের জমি আছে। এরা হলেন রফিকুল, দারোগ আলী, শহিদুল মিয়া। আঃ হাকিম মিয়া আরো জানান এখানকার বাগানের কাঁশ ডাটা বিক্রি করা হয়। বাংলা কার্তিক মাসের প্রথম ভাগে নাটোর এলাকা থেকে একাধিক ব্যবসায়ী এসে দর দাম মিটিয়ে কেটে নিয়ে যান। তার অংশে চার থেকে পাচ হাজার টাকা পান বলে জানান । শুকনো মওসুমে পতিত থাকায় এলাকার গৃহস্থদের পালিত গরুগুলো এখানে চড়ানো (খাওয়ানো) হয়।

তিনিসহ অন্য জমি মালিকেরা বর্ষা মওসুমের আগে এখানকার জমিতে সব ধরণের রাসায়নিক সার ছিটিয়ে দেন। যেন কাঁশ ডাটাগুলো ভালো সতেজ হয়। পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, চরটির জমিগুলো বোরো (ইরি) ধান, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। কাঁশ বাগান থেকে জমি মালিকেরা বছরে কম বেশি যাই হোক কিছু টাকা পাচ্ছেন।

 

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!