আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিয়ালকোলে উকিল বাবা কর্তৃক গৃহবধু ধর্ষণের বিচার ॥ আড়াই লক্ষ টাকায় মিমাংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে উকিল বাবা সবুজ শেখের বিরুদ্ধে। ধর্ষিতা ওই গৃহবধু এখন স্বামীর সংসার ও বাড়ি ছাড়া। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আড়াই লাখ টাকা বিচারের রায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কতিপয় শিয়ালকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী আল-আমিন, মুঞ্জু শেখ, লিপু, আনছার, খালেক, বিশা, মাসুদ, শাহিন, নুরু ও ধর্ষকের পিতা লুৎফর শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত যুবক সবুজ শেখ আত্মগোপনে রয়েছে। বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৯ মাচ আগে সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ারবৈদনাথ গ্রামের আসাদুল শেখ ওরফে (গুট) এর ছেলে সিনবাদ (১৮) এর সাথে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চর-রায়পুর (দক্ষিনপাড়া) গ্রামের আওয়াল শেখের মেয়ে আউলিয়া খাতুন (১৪) সাথে পরিবারি প্রস্তাবে গোপনে বাল্য বিয়ে হয়। বাল্যবিয়ের সময় উকিল বাবা হিসেবে কাবিন নামায় স্বাক্ষর করেন দিয়ারবৈদনাথ গ্রামের মো. লুৎফর রহমানের ছেলে সবুজ শেখ (২১)। এই সম্পর্কের জেড় ধরে আউলিয়ার বাড়িতে সবুজ আসা যাওয়া করতো। সেই থেকে আউলিয়ার সাথে উকিল বাবা সবুজের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে গত ১৪ জুলাই সবুজ আউলিয়াকে তার বোনের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে ৬ দিন আউলিয়া ও সবুজ একই ঘরে রাত্রি যাপন করে। রাত্রী যাপনকালে বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে আউলিয়াকে বিয়ে করার কথা দেয় সবুজ। তারপর আউলিয়া ও সবুজ দিয়ারবৈদনাথ গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে দুইজন। বাড়িতে আসার পর সবুজ আউলিয়াকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আউলিয়া তার স্বামী সিনবাদকে বিষয়টি জানান। তখন সিনবাদ বউ রাখবে না বলে এলাকার মুরুব্বীদেরকে বিষয়টি জানায়। এ ঘটনায় (গত ২৩ জুলাই) মুরুব্বীরা বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে আউলিয়া সবার সমানে উকিল বাবা সবুজের সাথে তার সম্পর্ক রয়ে স্বীকার করে। সেই কারনে সবুজের সাথে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য বগুড়ায় যায়। সবুজ বিয়ে না করলে আউলিয়া আত্মহত্যা করবে হুশিয়ারী দেয়। এলাকাবাসী জানান, আউলিয়াকে বিয়ে করতে কিছুতেই রাজি না হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মুরুব্বীদের ম্যানেজ করে তাদের দিয়ে ধর্ষিতার পরিবারটিকে আপোষ করার জন্য ব্যাপক ভাবে চাপ সৃষ্টি করেন সবুজের পরিবার। গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাতে প্রভাবশালী লিপুর বাড়িতে ধর্ষিতা গৃহবধুর বাবা আওয়াল শেখকে ১ লক্ষ ৭০ টাকা সবুজকে ও বউ না রাখায় স্বামী সিনবাদকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জমিনার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে দেওয়া কথার রয়েছে বলে স্থানীয় মুরুব্বী লিপু জানান। অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সালিশকারক মনির বলেন, আমরা সালিশে উপস্থিত ছিলাম। তবে আড়াই লক্ষ টাকায় মিমাংসা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিনবাদের বাবা আসাদুল শেখ গুটু অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মুরুব্বীরা আমার ছেলেকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আমি এই বিচার মানি না। ধর্ষিতার বাবা আওয়াল শেখ বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষন করেছে উকিল বাবা সবুজ। এখন বিচারের নামে আমার মেয়ের সংসার নষ্ট করে দিলো স্থানীয় মুরুব্বীরা। আমি এখন মেয়েকে নিয়ে কোথায় যায়। সদর থানার (ওসি তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!