আজ ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চৌহালী-এনায়েতপুরে ২ হাজার কোরবানির পশু ফেরত আসায় যমুনা চরের কৃষক ও ব্যাপারীদের লোকশান

চৌহালী প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরাঞ্চল অধ্যুষিত চৌহালী ও এনায়েতপুরে প্রায় ২ হাজার কোরবানির পশু এবছর ঈদে বিক্রি না হওয়ায়, হাটফেরত এ গরু নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিটি গরুর সর্বনিম্ন মূল্য ৭০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ টাকা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট থেকে এসব গরু ফেরত আসায় যমুনা চরের চৌহালী ও এনায়েতপুরের প্রায় সাড়ে ৫’শ কৃষক ও ব্যবসায়ী প্রায় ৪৫ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে ক্ষতিগ্রস্থরা দাবি করেছেন।

করোনা মহামারির কারোনায় বিপর্যস্থ অর্থনীতিতে বাজারে গরুর চাহিদা না থাকায় ফেরত এসব গরু কসাইরাও নিতে রাজি হচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষক তাদের এ গরু দু’তিনগুণ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফেরত এসব গরু ইতিমধ্যেই পায়ে ঘাঁ, শরীর দুর্বল, খুধামন্দা রোগে আক্রান্ত হয়ে কাহিল হয়ে পড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এ বছর করোনায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে বাড়িতে ছোট ছোট গরুর খামার গড়ে তোলা। একারনে গরু মোটাতাজা করন অন্যান্য বছরের তুলনায় কম ছিল না। এছাড়া কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য চৌহালী-এনায়েতপুরের কৃষকরা প্রায় ২১ হাজার ষাড় গরু প্রস্তুত করেন। এর মধ্যে স্থানীয় হাট-বাজারে সাড়ে ৭হাজার গরুর চাহিদা মেটানো হয়। বাকি প্রায় ১৪ হাজার গরু কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজেরাই যমুনা নদীতে ইঞ্জিন চালিত শ্যালো নৌকা ও সড়ক পথে ট্রাক করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন কোরবানির বড় বড় পশুর হটে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। কিন্তু এ বছর এসব হাটে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া করোনার কারনে মধ্যবিত্তরা এবার অনেকেই কোরবানি না দেয়ায় গরুর চাহিদা তেমন একটা ছিল না।

ফলে বিক্রি না হওয়ায় এসব হাট থেকে প্রায় ২ হাজার গরু ফেরত আসে। কৃষকরা এ ফেরত আসা গরু নিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। এনায়েতপুর থানার গোপিনাথপুর দক্ষিণাপাড়ার গরুর বেপারী সমেশ আলী জানান, ১৪টা গরু নিয়ে নারায়নগঞ্জ কোরবানির পশুর হাটে শ্যালো নৌকা নিয়ে গিয়েছিলাম। ৫দিন থেকেও হাটে ক্রেতা তুলনামুলক কম থাকায় ভাল দাম পায়নি। যে কারনে ২ টা গরু কেনা দামে বিক্রি করলেও বাকি ১২টা গরুর নায্য মুল্য না পাওয়ায় ফেরত নিয়ে এসেছি। এতে বহু টাকা লোকশানের মুখে পড়তে হয়েছে। এবছর অত্র এলাকায় প্রায় ২ হাজার কোরবানির পশু ফেরত এসেছে। এতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা লোকশান হবে সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে স্থল চরের ছামাদ ফকির ও তারা বেপারী, দ্বাদশপট্টির রওশন আলী, মহির উদ্দিন জানান, তারা প্রত্যকেই কোরবানি উপলক্ষে একাধিক ষাড় গরু মোটাতাজা ও স্থানীয় হাট থেকে ক্রায় করে ঢাকার হাটে বিক্রির উদ্যেশে খরিদ করেন। কিন্তু গো খাদ্যের দাম বৃদ্দির কারনে গরু প্রতি অনেক বেশি টাকা খরচ হলেও ঢাকার পশুর হাটে প্রত্যাশার চেয়ে গরুর দাম অনেক কম হওয়ায় তিন নৌকা ভর্তি করে প্রায় অর্ধশতাধিক গরু ফেরত নিয়ে আসতে হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একে এস এম মোশারফ হোসেন বলেন, কোরবানির হাট থেকে ফেরত আসা গরুর স্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কৃষকদের নানা পরামর্শ ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করবেন। এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহিদ আল হাসান যুগান্তরকে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ খামারিদের সার্বিক খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!