আজ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

তাড়াশে স্কুলছাত্রীর সাথে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে ॥ অতঃপর স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার

বিশেষ প্রতিবেদক :

স্কুলছাত্রীর সাথে তিনবছরের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের পর আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটকের পর উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে বিয়ে করেন কলেজ ছাত্র আল আমিন খান (২১)। ধর্মীয় নিয়ম মেনে বিয়ে করলেও এখন স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার করছে সে।

এদিকে, স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকী দিচ্ছে ভুক্তভোগী ওই নববধু। এমন ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ভোগলমান গ্রামে।

জানা গেছে, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ভোগলমান গ্রামের আব্দুল আলীমের স্কুল পড়–য়া মেয়ের সাথে পার্শ্ববর্তী বড় মাঝদক্ষিণা গ্রামের প্রভাবশালী সাইফুল ইসলামের কলেজ পড়–য়া ছেলে আল-আমীনের দীর্ঘ তিনবছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এমন কি বিয়ের প্রলোভনে ওই স্কুলছাত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে আল-আমীন খান। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। ওই রাতেই আল-আমীন গোপনে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যায় শারীরিক সম্পর্ক করতে।

এসময় স্কুলছাত্রীর পরিবার ও প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে। পরে গ্রাম্য বৈঠকে দু’পরিবারের সম্মতিতে ৬ লক্ষ টাকা কাবিনমূলে তাদের বিয়ে হয়। অথচ, বিয়ের পরদিন আল-আমীন ওই বিয়েকে অস্বীকার করে স্ত্রীকে রেখেই শ্বশুর বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। এ ঘটনার পর শনিবার আল-আমীনের বড় ভাই আব্দুল মতিন তার ভাইকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে জোড়পূর্বক বিয়ে দেয়া হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্কুল ছাত্রী বলেন, আল-আমীনের সাথে আমার ৩ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সে আমার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছে।

এক পর্যায় আমার পেটে সন্তান চলে আসলে আল-আমীন ওষুধ খাইয়ে বাচ্চাা নষ্ট করে ফেলে। এদিকে, আল-আমীনকে বিয়ের চাপ দিলে সে তালবাহানা করতে থাকে। বৃহস্পতিবার রাতে গোপনে আল-আমীন আবারও আমার বাড়িতে এসে শারীরিক সম্পর্ক করার সময় এলাকাবাসী আটক করে আমাদের বিয়ে দেন। কিন্তু সে এখন আর আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছে না। স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আমাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে।

স্কুল ছাত্রীর বাবা আব্দুল আলীম বলেন, আমার স্কুল পড়–য়া মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করে আল-আমীন। ওই রাতে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে দু’পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেয়। কিন্তু এখন আমার মেয়েকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে উল্টো আমাদের নামে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এসময় তিনি ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে দেশিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন, গ্রামের মানুষ আপত্তিকর অবস্থায় ছেলে-মেয়েকে আটক করে আমাকে অবগত করে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরর্বতীতে জানতে পারলাম ছেলের পরিবার থেকে মেয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে। এটি দুঃখজনক ও অমানবিক কাজ বলেও মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!