আজ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চলনবিলে অবাধে মা বোয়াল মাছ শিকার করছে অসৎ মংস্যজীবিরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক চলনবিলে এখন ডিমওয়ালা বোয়াল মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে অসৎ মৎস্যজীবিরা। প্রজননের সময় অবাধে এ মা মাছ শিকার করলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, চলনবিলে জ্যৈষ্ঠের এ সময় বৃষ্টি হলেই বোয়াল মাছ প্রজননের জন্য ফাঁকা মাঠে উঠে আসে। আর উঠে আসা ডিমওয়ালা মা মাছ গুলো সৌখিন ও অসাধু মৎস্য জীবিদের শিকার হচ্ছে। ডিমওয়ালা এ মাছ স্থানীয় হাট বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও স্থানীয় মৎস্য বিভাগের প্রতিরোধ মূলক ভুমিকা নেই। জ্যৈষ্ঠ মাসে ভারী থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাতের সময় এ মাছের প্রজনন শুরু হয়। এ বিলে বর্ষণের পানিতে ভরে ওঠার সাথে সাথে ডিম ভর্তি বোয়াল, শোল, চিতলসহ অনান্য মাছও প্রজনন শুরু করে। আর এ সময় চলনবিলে চলছে ডিমওয়ালা বোয়াল মাছসহ অন্যান্য মাছ ধরার প্রায় উৎসব।

এ অঞ্চলের বিশিষ্টজনেরা বলছেন, বৃষ্টিপাতের সময় এ চলনবিলে বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়তে ছুটা-ছুটি করতে থাকে। বিশেষ করে ৫ থেকে ১২কেজি ওজনের বোয়ালসহ ওই সকল মাছ গুলো ফসলী মাঠে উঠে আসে। আর এসময় সৌখিন এবং অসাধু মৎস্যজীবিরা কোঁচ, জুতি, পলো, তেউরি জালসহ অনান্য কৌশলে এসব শিকার করা হচ্ছে।

এদিকে চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুরে গত এক সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টির সময় পানিতে ডিমওয়ালা বোয়াল মাছ ডিম ছাড়ার সময়ে বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মা-মাছ শিকার করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয় আড়তে বোয়াল মাছসহ বিভিন্ন ডিমওয়ালা মাছ বিক্রি হচ্ছে।

তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মশগুল আজাদ বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা। তাড়াশের চলনবিল এলাকায় ইতিমধ্যেই ডিমওয়ালা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেজবাউল করিম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!