আজ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রায়গঞ্জের বাঁকাই গ্রামে টায়ার পুড়িয়ে গ্রীন ওয়েল তৈরি কারখানার সন্ধান

রায়গঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বাঁকাই গ্রামে যানবহনের টায়ার পুড়িয়ে গ্রীন ওয়েল ও কালি তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ কারখানায় টায়ার পোড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়া আর দূর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বাঁকাই গ্রামে সোহানুর রহমান সোহান গ্রীণ ওয়েল প্রোডাক্টাস নামের একটি কারখানা গড়ে তোলেন। কারখানার পরিবেশ দূষনের অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী সরেজমিনে কারখানাটি পরির্দশনে যান।

এ সময় কারখানার ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার স্বপনের কাছে কারখানার পরিবেশ ছাড়পত্রের কাগজপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। এসময় তিনি বলেন, তাদের কাছে কারখানার কোন কাগজপত্র নেই। সমস্ত কাগজপত্র ঢাকা হেড অফিসে রয়েছে।

উক্ত কারখানাটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আবাদী কৃষি জমির পার্শ্বে কারখানাটি স্থাপন করায় কারখানার বর্জ্য নির্গত হয়ে আবাদী জমিতে প্রবেশ করে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও, কারখানায় টায়ার পোড়ানোর কারণে কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। আর এ পরিবেশ দূষনের কারণে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬টি শর্তাবলীর মাধ্যমে ধামাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান রাইসুল হাসান উক্ত কারখানাটি পরিচালনা করার জন্য একটি ছাড়পত্র প্রদান করেন। কিন্তু সেই শর্ত ভঙ্গ করে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছে।

শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে –
(১) কারখানা স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষন আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
(২) পরিবেশ অধিদপ্তর হতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে।
(৩) কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
(৪) উপযুক্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং অগ্নিকান্ড কিংবা অন্যকোন দুর্ঘটানার সময় জরুরী নির্গমন ব্যবস্থা থাকতে হবে।
(৫) বায়ু ও শব্দ দূষণ করা যাবে না।
(৬) কারখানায় সৃষ্ট তরল বর্জ্য অপরিশোধিত অবস্থায় বাহিরে নির্গমন করা যাবে না।

উল্লেখিত যে কোন শর্ত লংঘন করলে যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে উক্ত ছাড়পত্রে উল্লেখ রয়েছে। অথচ, এই গ্রীণ ওয়েল কারখানাটিতে সকল শর্তাবলীর ভঙ্গ করে আইনকে বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখিয়ে যানবহনের নানা ধরনের টায়ার পুড়িয়ে কালো ধোঁয়ায় ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে এলাকায় পরিবেশ দূষণ করে চলেছে। কিন্তু স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপÍর থেকে এই পরিবেশ দূষণকারী কারখানাটির বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ বিষয়ে ধামাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান রাইসুল হাসান সুমনের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কারখানাটিকে ট্রেড লাইসেন্স ও ৬টি শর্ত সম্বলিত একটি ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়ার জন্য। এরপর তিনি আর কিছু জানেন না। এ বিষয়ে ধামাইনগর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব সোহেল বলেন, আমি কারখানাটিতে গিয়ে ছিলাম। কারখানাটিতে টায়ার পোড়ানো দূর্গন্ধ ও কালো ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। কারখানাটি বন্ধ হোক তিনি এটা চান না, তবে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এলাকায় নানামুখী সমস্যা দেখা দিবে।
কারখানা মালিক সোহানুর রহমান সোহানের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কাগজ দেখাতে বাধ্য নই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আলম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবীর কুমার দাশের সাথে একাধিক বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে থাকার কারণে কোন তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান।

আজকের সিরাজগঞ্জ // রিফাত

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!