আজ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চৌহালীতে যমুনার ভাঙন হুমকির মুখে ১৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

রফিক মোল্লা

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দেড় সপ্তাহে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরের বেশ কয়েকটি বসু ভিটা ও ফসলি জমি এবং ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া, উপজেলার প্রায় ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে।

জানা যায়, জৈষ্ঠ্যের জোয়ারে যমুনা নদীতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রচন্ড স্রোতের কারণে চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের হাটাইল, ঘুশুরিয়া, হিজুলিয়া, কাঠালিয়া ও উমারপুরের পয়লা এলাকার প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন চলছে। বিলীন হচ্ছে বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এছাড়া গণ এক সপ্তাহের ব্যবধানে পশ্চিম হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়েছে।

গুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, নদী ভাঙনের কারণে বুধবার সকালে স্কুল ঘর ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। করোনা সংকট শেষ হলে চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের পুরনো ঠিকানা ভুলে যাবে। তীর সংরক্ষণে নদীর পেটে বালির বস্তা ডাম্পিংয়ের দাবি জানাই।

চৌহালী উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নদী ভাঙনে বসু ভিটা ও ফসলি জমির সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে যাচ্ছে। অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম সম্ভদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হাটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাষ মধ্যশিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, থাক মধ্যশিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যশিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিশ্রিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারবয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউসুফ শাহী সলঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলজলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটাইল নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

এছাড়া, গত ৮বছরে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কয়েক হাজার বসতিসহ প্রায় ৫২ হাজার একর আবাদি জমি যমুনা নদী গ্রাস করেছে। তবে, নদীতে ভেঙে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় নিরাপদ স্থানে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চরের ভাঙনরোধে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়নি পাউবো এমন অভিযোগ স্থানীয় শিক্ষক ও এলাকাবাসির।

এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফিরোজ জানান, যমুনার ভাঙনে হুমকির মুখে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া, বিলীন হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়গুলোর নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। নতুন ভবন নির্মাণ হলে দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। সেই সাথে ভাঙনরোধে তীর সংরক্ষনের দাবি জানাই।

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর...

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তী

error: Content is protected !!